ডাউন সিনড্রোম: অতিরিক্ত ক্রোমোজোমের অপসারণ

ডাউন সিনড্রোম মানেই আমরা ধরে নেই জন্মের আগেই নির্ধারিত, সারা জীবনের জন্য স্থায়ী এক নিষ্ঠুর বাস্তবতা। কারণ ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত মানুষের ২১ নম্বর ক্রোমোজোম দু’টির বদলে তিনটি থাকে। এই একটি বাড়তি ক্রোমোজোমের কপিই‌ তার জীবনভর নানা শারীরিক এবং মানসিক উপসর্গের মূল উৎস। ডাউন সিনড্রোমকে আমরা এতদিন নিয়তি বলেই মেনে নিয়েছি। চিকিৎসাবিজ্ঞান এই উপসর্গ কিছুটা কমাতে পারে এবং আচরণগত সহায়তা জীবনমান কিছুটা উন্নত করতে পারে। কিন্তু এতদিন কেউ এই মূল কারণটিকে ছোঁয়ার মতো সাহসী পদ্ধতি দেখাতে পারেনি।  সম্প্রতি জাপানের বিজ্ঞানীরা সেটিই করে দেখালেন। 

তাঁরা CRISPR- Cas9 জিন এডিটিং পদ্ধতি ব্যবহার করে পরীক্ষাগারে অতিরিক্ত  ক্রোমোজোম ২১ এর পুরোটাই সরিয়ে ফেলতে পেরেছেন। এটা কেবল একটি বা দু'টি ভুল জিন ছেঁটে ফেলা নয়। গবেষক দলটি এমনভাবে ক্রিসপার গাইড নকশা করেছেন, যেটা সরাসরি সেই অতিরিক্ত ক্রোমোজোম-২১‌ কে লক্ষ্য করে গিয়ে সেটিকে কেটে বাদ দিতে পারে। জায়গা নির্দিষ্ট করে এই নিখুঁত লক্ষ্যে আঘাত হানার কৌশলকে বলা হয়, "অ্যালিল-স্পেসিফিক এডিটিং", যেখানে Cas9 এনজাইম ঠিক প্রয়োজনীয় স্থানেই ছুরি চালায়, সুস্থ অংশে নয়।

এর পর যেটা দেখা গেছে সেটা সত্যি বিস্ময়কর। অতিরিক্ত ক্রোমোজোম সরতেই বহু জিনের কাজকর্ম আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে এসেছে। ক্ষীণ গতির কোষ আবার দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে, মাইটোকনড্রিয়া বা কোষের শক্তিঘর হয়ে উঠেছে আরও কর্মক্ষম। এমনকি কোষের বার্ধক্য ও ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত ক্ষতিকর অণুর পরিমাণও কমে গিয়েছে। সবচেয়ে তাৎপর্যের বিষয়, মস্তিষ্ক বিকাশের সঙ্গে সম্পর্কিত জিনগুলোর কর্মশক্তি আবার বাড়তে দেখা গেছে।  

তবে এটি এখনো ক্লিনিক্যালী পরীক্ষা করার মত পরিণত প্রযুক্তি নয়। ভুল ডিএনএ কাটের ঝুঁকি কমানো,‌ জিন  এডিটিং স্থায়ী রাখা, এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো বাকি। কিন্তু এই গবেষণা প্রমাণ করে দিয়েছে, CRISPR কেবল ছোটখাটো ভুল মেরামতের অস্ত্র নয়।একদিন হয়তো পুরো ক্রোমোজোম সরিয়েও জেনেটিক রোগের গোড়ায় আঘাত হানা সম্ভব হবে।

তথ্যসূত্র: Trisomic rescue via allele-specific multiple chromosome cleavage using CRISPR-Cas9 in trisomy 21 cells.

https://academic.oup.com/pnasnexus/article/4/2/pgaf022/8016019

Comments